মিডল আর্থের জাদুকর

জে আর আর টোলকিনের মিডলআর্থের ঘটনাবলি বেশ কয়েকটি যুগব্যাপী বিস্তৃত। মূলত চারটা যুগের উল্লেখ পাই আমরা। এরমধ্যে দ্বিতীয় যুগ বা সেকেন্ড এজে মিডলআর্থে সাউরনের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। কিন্তু শেষপর্যন্ত এলফ আর মানব জাতির মিলিত শক্তির কাছে ডার্কলর্ড সাউরন পরাজিত ও অর্ন্তহিত হয়। সাউরনের অন্তর্ধানের মধ্যে দিয়ে সেকেন্ড এজের পরিসমাপ্তি ঘটে।

থার্ড এজ বা তৃতীয় যুগের শুরুর দিকেই গ্রেট রিং হারিয়ে যায়। এর একহাজার বছর পরে মিডলআর্থে আবার ডার্কলর্ড সাউরনের পুণরুত্থান লক্ষ্য করেন ম্যানওয়ে (Manwe)। এই ম্যানওয়ে হলেন ভালাদের রাজা। একবচনে `Vala’; বহুবচনে `Valar’। এখন প্রশ্ন হল, এই ভালা কারা? সহজ করে বললে, ভালারা হলেন টোলকিন ইউনিভার্সের দেবতা। এই ভালাদের সাহায্য করে মায়া। সহজ কথায় মায়ারা হল ছোট দেবতা। (Singula- Maia; Plural- Maiar) ভালারা অর্থাৎ বড় দেবতাদের কাজ হল পৃথিবীকে ঠিকভাবে পরিচালনা করা। আর সেই কাজে তাদের সাহায্য করেন ছোট দেবতারা অর্থাৎ মায়ারা।

তৃতীয় যুগের ১০০০ সালের দিকে ম্যানওয়ে যখন দেখলেন মিডল আর্থে আবার ডার্কলর্ড সাউরন শক্তিসঞ্চয় করতে শুরু করেছে তখন, ম্যানওয়ে তার বিশ্বস্ত পাঁচ জন মায়াকে মিডলআর্থে পাঠান। এদের নামগুলো বলি: কুরুমো, অলোরিন, আইওয়েনডিল, মরিয়েনতার, রোমেসটামো। অবশ্য পাঁচজনকে একসাথে পাঠাননি। কে কখন মিডলআর্থে আসলো এব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। আপনাদের জানা থাকলে জানান আমাকে।

যাইহোক, এই পাঁচ মায়া মিডলআর্থে হাজার হাজার বছর কাটিয়ে দিল বুড়ো জাদুকরের রূপ ধরে। মিডলআর্থের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিল। মিডলআর্থকে অশুভের হাত থেকে রক্ষা করল বারবার। এদের মধ্যে কুরুমো হল সারুমান দ্য হোয়াইট, অলোরিন হল গ্যান্ডালফ দ্য গ্রে, আইওয়েনডিল হল র‌্যাডাগাস্ট, বাকি দুজন যথাক্রমে অ্যালাতার আর প্যালানডো। পালানডো আর অ্যালাটার এই দুজন ‘ব্লু উইজার্ড’ হিসেবে বিখ্যাত।

মিডল আর্থ ইউনিভার্সের সূচনা হয় দি হবিট বই দিয়ে। এই বইয়ের ব্যাপারে বিস্তারিত: https://mithu.info/hobbit-book/

আসছে এই ইউনিভাসের্র দি লর্ড অফ দ্য রিংস সিরিজের প্রথম বই “দি ফেলোশিপ অফ দ্য রিং”।

Author: Moheul I Mithu

মহিউল ইসলাম মিঠু কৌতুহলী মানুষ। জানতে ভালোবাসেন। এজন্যই সম্ভবত খুব অল্প বয়সেই বইয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। পড়ার অভ্যাসটাই হয়তো ধীরে ধীরে লেখার দিকে ধাবিত করেছিল। তার পাঠকপ্রিয় অনুবাদ গুলোর মধ্যে রয়েছে: দি হবিট, দি লর্ড অফ দ্য রিংস, পার্সি জ্যাকসন, হার্ড চয়েসেজ, দি আইস ড্রাগন, লিজিয়ন, প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে, দি আইভরি চাইল্ড ইত্যাদি। বাংলাদেশে প্রথমসারির জাতীয় পত্রিকা, সংবাদপত্র ও ওয়েবসাইটের জন্য লিখেছেন বিভিন্ন সময়। তিনি বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন কিশোর-ম্যাগাজিন ‘আজবদেশ’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। বিশ্বখ্যাত ২০টির বেশি বই অনুবাদ করে বিভিন্ন স্তরের পাঠকের আস্থা অর্জন করেছেন, জিতে নিয়েছেন ভালোবাসা। তার অনুদিত কিছু বই বিভিন্ন সময় জাতীয় বেস্ট-সেলারের তালিকাগুলোতে ছিল। (লিখেছেন: লে: কর্নেল রাশেদুজ্জামান)

Share This Post On

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link
Powered by Social Snap