ড্রাকুলা (গ্রাফিক নোভেল)

আমার কথা

ব্রাম স্টোকারের ড্রাকুলা উপন্যাসটা প্রথম যখন পড়লাম তখন সম্ভবত ক্লাস সিক্স বা সেভেনে। সেবা প্রকাশনী থেকে রকিব হাসানের অনুবাদে। সংক্ষেপিত অনুবাদ, কিন্তু প্রথমবার পড়েই ভালো লেগেছিল। সেই থেকে হরর গল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়গুলোর একটা হয়ে আছে ড্রাকুলা।

এই বইটা নিয়ে একটা বড় ধাক্কা খেয়েছিলাম, তিন-চার বছর পর, ইংরেজীটা পড়ার সময়। অনুবাদে ক্ষেত্রে আমার প্রিয় অনুবাদক একটা ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছেন। রকিব হাসানের অনুবাদে কাউন্ট ড্রাকুলাকে ভিলেন বলে মনে হয়েছিল, কিন্তু অরিজিনাল বইটা পড়ার সময় দেখলাম, ড্রাকুলা আসলে নায়ক। মনটা খুব খারাপ হয়েছিল। তখন থেকে ড্রাকুলার একটা পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করার একট ইচ্ছা সবসময়ই ছিল, কিন্তু সময় হয়ে ওঠেনি। তাছাড়া এতদিন আগের সবার পড়া একটা বই আবার প্রকাশ করা ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে কতটা ভালো সিদ্ধান্ত হবে সেটাও একটা ভাবনার বিষয় ছিল।

যাই হোক, আসল কথায় ফেরত আসি। ড্রাকুলার একটা পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ বাংলায় না থাকার একটা খুতখুতানি মনের মধ্যে সবসময়ই ছিল। ২০১২-১৩ সালের দিকে হাতে পড়ল, ব্রাম স্টোকারের “ড্রাকুলা”-র একটা গ্রাফিক নোভেল। গ্রাফিক নোভেলটাতে অরিজিনাল বেইটাকেই ফলো করা হয়েছে। তখন আমি একটা অনলাইন ম্যাগাজিনের সাথে কাজ করছিলাম। সেই ম্যাগাজিনের জন্য গ্রাফিক নোভেলটা অনুবাদ করে ফেললাম। পরে ম্যাগাজিনটা বন্ধ হয়ে যায়, ড্রাকুলার গ্রাফিক নোভেলটা পুরোপুরি প্রকাশ করা যায়নি।

অতপর, বহুকাল পরে সেই কাজটাকেই আরো নান্দনিকভাবে প্রকাশ করার এই উদ্যোগটা বইটই-এর। গত ১৭ মার্চ বইটই থেকে ইবুক আকারেই প্রথমে প্রকাশিত হল, চার ইস্যুর এই গ্রাফিক নোভেলের প্রথম ইস্যু। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্লাটফর্ম গুলোতেও প্রকাশ করা হবে। হার্ডবুকের ব্যাপারে প্রকাশকরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না তেমন। সাদাকালো ছবি দিয়ে প্রকাশ করতে চান তারা। আমি চাই রঙিনই হোক। তাই হার্ডবুক খুব সহসাই আসার কোনো সম্ভবনা দেখছি না।

ড্রাকুলা চারটি ইস্যু

কাহিনি সংক্ষেপ:

ব্রাম স্টোকারের বিখ্যাত হরর উপন্যাস ড্রাকুলা। এই কাহিনীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অগণিত নতুন উপন্যাস, সিনেমা, টিভি সিরিজ, কমিকস। কিন্তু এতকিছুর পরেও বইটির আবেদন তো কমেই নি বরং বেড়ে চলেছে।

এই বইটি অরিজিনাল উপন্যাসটির গ্রাফিক নোভেল সংস্করণ। জোনাথন হারকারকে কাজের খাতিরে যেতে হয় ট্রানসিলভালিয়ায়। সেখানে কাউন্ট ড্রাকুলা নামে এক বনেদী লোক অপেক্ষা করছে তার জন্য। লন্ডনে একসাথে অনেক সম্পত্তি কিনেছেন ভদ্রলোক। কিন্তু কি তার উদ্দেশ্য? এদিকে ড্রাকুলার প্রাসাদে অদ্ভূত সব ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে জোনাথনকে।

কিন্তু এ সবকিছুর সাথে কি সম্পর্ক জোনাথনের বাকদত্ত্বা মিনার? আবার মিনার বান্ধবী লুসিও সহ লন্ডনের আরো অনেকে জড়িয়ে পড়েছে ভয়ানক এই খেলায়।

সেই সব গল্প শোনাচ্ছেন প্রফেসর ভ্যান হেলসিং।

বই: ড্রাকুলা

ধরন: গ্রাফিক নোভেল

ক্যাটাগরি: হরর, অ্যাডভেঞ্চার, থ্রিলার, অনুবাদ, গ্রাফিক নোভেল, কমিকস, চিরায়ত সাহিত্য, ক্লাসিক

কাহিনী: ব্রাম স্টোকার

অনুবাদ: মহিউল ইসলাম মিঠু

প্রকাশক: বইটই, সেইবই

ইস্যু ১’র বইটই বারকোড

প্রয়োজনীয় লিংকসমূহ

বইটইতে পাবেন এই লিংকে: https://boitoi.com.bd/book/825/%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BE

সেইবইতে পাবেন এই লিংকে:

গুডরিডসে পাবেন: https://www.goodreads.com/book/show/52443953

Author: Moheul I Mithu

মহিউল ইসলাম মিঠু কৌতুহলী মানুষ। জানতে ভালোবাসেন। এজন্যই সম্ভবত খুব অল্প বয়সেই বইয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। পড়ার অভ্যাসটাই হয়তো ধীরে ধীরে লেখার দিকে ধাবিত করেছিল। তার পাঠকপ্রিয় অনুবাদ গুলোর মধ্যে রয়েছে: দি হবিট, দি লর্ড অফ দ্য রিংস, পার্সি জ্যাকসন, হার্ড চয়েসেজ, দি আইস ড্রাগন, লিজিয়ন, প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে, দি আইভরি চাইল্ড ইত্যাদি। বাংলাদেশে প্রথমসারির জাতীয় পত্রিকা, সংবাদপত্র ও ওয়েবসাইটের জন্য লিখেছেন বিভিন্ন সময়। তিনি বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন কিশোর-ম্যাগাজিন ‘আজবদেশ’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। বিশ্বখ্যাত ২০টির বেশি বই অনুবাদ করে বিভিন্ন স্তরের পাঠকের আস্থা অর্জন করেছেন, জিতে নিয়েছেন ভালোবাসা। তার অনুদিত কিছু বই বিভিন্ন সময় জাতীয় বেস্ট-সেলারের তালিকাগুলোতে ছিল। (লিখেছেন: লে: কর্নেল রাশেদুজ্জামান)

Share This Post On

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link