দি হবিট- বই পরিচিতি

দি হবিট- বই পরিচিতি

আপনি যদি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফ্যান্টাসি বই লিখে সার্চ দেন গুগলে তাহলে প্রথমেই যে বইয়ের নামগুলো চোখ পড়বে তার মধ্যে ‘দি হবিট’ থাকবেই। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হওয়া এই এভারগ্রিন ক্লাসিক পঞ্চাশের দশকে লেখককে আরও একটি অনবদ্য কাজে উদ্বুদ্ধ করে। জন্ম হয় ফ্যান্টাসী দুনিয়ার আরেক মাইলস্টোন ‘দি লর্ড অফ দ্য রিংস’। এভাবে দেখলে মিডল আর্থ নামক ইউনিভার্সটার জন্মই হয়েছে এই ‘দি হবিট’ দিয়ে। পরবর্তীতে ‘দি লর্ড অফ দ্য রিংস’ আর ‘দি হবিট’ দুটো নিয়েই হলিউডে সিনেমা তৈরী হয়েছে। সেই সব সিনেমা আবার সিনেমার ইতিহাসের মাইলস্টোন। যাই হোক, সেসব কথায় না যাই। আসল কথা হল, এই বইয়ের সাথে সময় খারাপ কাটার কোনো অপশনই নেই।

The Hobbit Cover

কাহিনী সংক্ষেপ:

লোনলি মাউন্টেন। বামনদের এক সমৃদ্ধ প্রতাপশালী রাজ্য। একদিন সেই প্রতাপশালী রাজ্যের উপর নেমে এলো অভিশাপ। রাজ্য দখল করে নিল এক ভয়ংকর ড্রাগন। ড্রাগনের নাম স্মাগ। নিমেষেই বিত্তবান প্রতাপশালী জনগন পরিণত হল ভবঘুরে দিনমজুরে। কিন্তু এদের মধ্যে এমনও কয়েকজন ছিল যারা নিজেদের গৌরবের ইতিহাস ভুলে যায়নি।

বহুদিন পর বামনদের একটি দল তাদের হারানো রাজ্য উদ্ধার করার সংকল্প নিল।  আর এই কাজে তাদের সাহায্য করছে এক জাদুকর। গ্যান্ডালফ। কিন্তু আরও একজন দরকার যাকে ছাড়া এ অভিযান অসম্ভব। এক আরামপ্রিয়, ছাপোষা হবিট। হবিট কি সেটা বইয়ের মধ্যে জানতে পারবেন পাঠক। এই হবিটের নাম বিলবো ব্যাগিন্স।

ভয়ংকর এই অভিযানে একের পর এক বিপদে পড়তে হল বিলবোদের। ট্রোল, গবলিন, বিরাট মাকড়শা, ড্রাগন, কোনোকিছুই বাদ গেল না। দেখা হল এলফদের সাথে, লেক আইল্যান্ডের ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের সাথে, বহুরূপী এক ভাল্লুকের সাথে। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। পৃথিবীর জন্য বিরাট এক বিপদ বয়ে নিয়ে এলো বিলবোরা। তবে তারা বিপদ বয়ে আনলো নাকি ভয়ংকর এক আশংকা থেকে বামনদের মুক্ত করল সেটা কাহিনীই বলে দেবে।

শেষ কথা:

কি বাচ্চাদের কাহিনী মনে হচ্ছে? বইয়ের চরিত্রগুলো বাচ্চাদের কথা মাথায় রেখেই যে তৈরি তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বইটি লেখক লিখেছিলেনই তার ছেলেকে শোনানোর জন্য। কিন্তু পরবর্তীতে এই বই দুনিয়া জয় করে ফেলেছে। কারণে বইয়ের কাল্পনিক পৃথিবীর পড়তে পড়তে আমরা খুঁজে পাই আমাদের জীবনকে। দেশপ্রেম, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, বিশ্বাস, বিশ্বাস-ঘাতকতা, আত্মত্যাগ, এসব জড়িয়ে আছে এই বইয়ের পাতায় পাতায়। ভালো আর মন্দের যে চিরন্তন দ্বন্দ্ব সেটার সূক্ষ্ম অথচ স্পষ্ট খেলাটাই পাঠককে মোহিত করে তোলে ছাপিয়ে যায় বয়স, কাল, পাত্রের সীমারেখা।

অনুবাদ প্রসঙ্গে:

এরকম কালজয়ী বই অন্য আরেকটি ভাষায় রূপান্তর করা অবশ্যই দুঃসাহসী কাজ ছিল আমার জন্য। কতটা পেরেছি বা পারিনি সেটার বিচার অবশ্যই আমার নয়। তবে আমি খুশি। আর প্রকাশ হওয়ার পর থেকে এই বইটা নিয়ে শুধু ভালোবাসাই জানিয়েছেন পাঠকরা। এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

বইয়ের প্রথম চ্যাপ্টারটা পড়ে দেখতে পারেন এখানে, দি হবিট – প্রথম অধ্যায়

বই: দি হবিট
লেখক: জে আর. আর. টোলকিন
প্রকাশক: সবুজপাতা (হার্ডকভার)
মুদ্রিত মূল্য: ৪৫০ টাকা রকমারি বইটি পেতে ক্লিক করুন
এছাড়াও সব অনলাইন বুকস্টোর সহ দেশের সব বড় বড় বুকস্টোরগুলোতে পাবেন।

ইবুক প্রকাশ করেছে বইটই

দাম: ৩০ টাকা। বইটইতে পেতে ক্লিক করুন

এই কিউআর কোডটিও স্ক্যান করতে পারেন

ইবুক প্রকাশ করেছে: সেইবই।
দাম: ৪০ টাকা। সেইবই-তে পেতে ক্লিক করুন

গুডরিডস: গুডরিডসে বইটি পাওয়া যাবে এখানে  

দি হবিট বইটি নিয়ে আমার কিছু কথা পড়ার জন্য: দি হবিট – অনুবাদকের কথা

বইটি নিয়ে রিভিউ দিয়েছেন পাঠক রেজাউল করিম: দি হবিট – পাঠক প্রতিক্রিয়া – ১

আরেকটি রিভিউ পেয়েছি আমরা রাফায়েত ইসলাম রিফাত-এর কাছ থেকে: দি হবিট – পাঠক প্রতিক্রিয়া ২

এছাড়া দি হবিট সংক্রান্ত অন্যান্য কিছু খবর:

নতুন প্রচ্ছদে দি হবিট

Author: Moheul I Mithu

মহিউল ইসলাম মিঠু কৌতুহলী মানুষ। জানতে ভালোবাসেন। এজন্যই সম্ভবত খুব অল্প বয়সেই বইয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। পড়ার অভ্যাসটাই হয়তো ধীরে ধীরে লেখার দিকে ধাবিত করেছিল। তার পাঠকপ্রিয় অনুবাদ গুলোর মধ্যে রয়েছে: দি হবিট, দি লর্ড অফ দ্য রিংস, পার্সি জ্যাকসন, হার্ড চয়েসেজ, দি আইস ড্রাগন, লিজিয়ন, প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে, দি আইভরি চাইল্ড ইত্যাদি। বাংলাদেশে প্রথমসারির জাতীয় পত্রিকা, সংবাদপত্র ও ওয়েবসাইটের জন্য লিখেছেন বিভিন্ন সময়। তিনি বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন কিশোর-ম্যাগাজিন ‘আজবদেশ’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। বিশ্বখ্যাত ২০টির বেশি বই অনুবাদ করে বিভিন্ন স্তরের পাঠকের আস্থা অর্জন করেছেন, জিতে নিয়েছেন ভালোবাসা। তার অনুদিত কিছু বই বিভিন্ন সময় জাতীয় বেস্ট-সেলারের তালিকাগুলোতে ছিল। (লিখেছেন: লে: কর্নেল রাশেদুজ্জামান)

Share This Post On

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link