দি হবিট- বই পরিচিতি
Jul29

দি হবিট- বই পরিচিতি

দি হবিট- বই পরিচিতি আপনি যদি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফ্যান্টাসি বই লিখে সার্চ দেন গুগলে তাহলে প্রথমেই যে বইয়ের নামগুলো চোখ পড়বে তার মধ্যে ‘দি হবিট’ থাকবেই। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হওয়া এই এভারগ্রিন ক্লাসিক পঞ্চাশের দশকে লেখককে আরও একটি অনবদ্য কাজে উদ্বুদ্ধ করে। জন্ম হয় ফ্যান্টাসী দুনিয়ার আরেক মাইলস্টোন ‘দি লর্ড অফ দ্য রিংস’। এভাবে দেখলে মিডল আর্থ নামক ইউনিভার্সটার জন্মই হয়েছে এই ‘দি হবিট’ দিয়ে। পরবর্তীতে ‘দি লর্ড অফ দ্য রিংস’ আর ‘দি হবিট’ দুটো নিয়েই হলিউডে সিনেমা তৈরী হয়েছে। সেই সব সিনেমার ইতিহাসের মাইলস্টোন। যাই হোক, সেসব কথায় না যাই। আসল কথা হল, এই বইয়ের সাথে সময় খারাপ কাটার কোনো অপশনই নেই। The Hobbit Cover কাহিনী সংক্ষেপ: লোনলি মাউন্টেন। বামনদের এক সমৃদ্ধশালী রাজ্য। একদিন সেই রাজ্য দখল করে নিল এক ড্রাগন। ভয়ংকর সেই ড্রাগনের নাম স্মাগ। বহুদিন পর বামনদের একটি দল তাদের রাজ্য উদ্ধার করার পরিকল্পনা করল।  আর এই কাজে তাদের সাহায্য করছে এক জাদুকর। কিন্তু আরও একজন দরকার যাকে ছাড়া এ অভিযান অসম্ভব। এক আরামপ্রিয়, ছাপোষা হবিট। হবিট কি সেটা বইয়ের মধ্যে জানতে পারবেন পাঠক। তবে এটুকু বলে রাখি, এই হবিটের নাম বিলবো ব্যাগিন্স। ভয়ংকর এই অভিযানে একের পর এক বিপদে পড়তে হল বিলবোদের। ট্রোল, গবলিন, বিরাট মাকড়শা, ড্রাগন, কোনোকিছুই বাদ গেল না। দেখা হল এলফদের সাথে, লেক আইল্যান্ডের ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের সাথে, বহুরূপী এক ভাল্লুকের সাথে। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। পৃথিবীর জন্য বিরাট এক বিপদ বয়ে নিয়ে এলো বিলবো। শেষ কথা: কি বাচ্চাদের কাহিনী মনে হচ্ছে? বইয়ের চরিত্রগুলো বাচ্চাদের কথা মাথায় রেখেই যে তৈরি তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বইটি লেখক লিখেছিলেনই তার ছেলেকে শোনানোর জন্য। কিন্তু পরবর্তীতে এই বই দুনিয়া জয় করে ফেলেছে। কারণে বইয়ের কাল্পনিক পৃথিবীর পড়তে পড়তে আমরা খুঁজে পাই আমাদের জীবনকে। দেশপ্রেম, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, বিশ্বাস, বিশ্বাস-ঘাতকতা, আত্মত্যাগ, এসব জড়িয়ে আছে এই বইয়ের পাতায় পাতায়। ভালো আর মন্দের যে চিরন্তন দ্বন্দ্ব সেটার সূক্ষ্ম অথচ স্পষ্ট খেলাটাই পাঠককে মোহিত করে তোলে ছাপিয়ে যায় বয়স, কাল, পাত্রের সীমারেখা। অনুবাদ প্রসঙ্গে: এরকম কালজয়ী বই অন্য আরেকটি ভাষায় রূপান্তর করা অবশ্যই দুঃসাহসী কাজ ছিল আমার জন্য। কতটা পেরেছি বা পারিনি সেটার বিচার অবশ্যই আমার নয়। তবে আমি খুশি। আর প্রকাশ হওয়ার পর থেকে এই বইটা নিয়ে শুধু ভালোবাসাই জানিয়েছেন পাঠকরা। এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বই: দি হবিট লেখক: জে আর. আর. টোলকিন প্রকাশক: সবুজপাতা (হার্ডকভার) মুদ্রিত মূল্য: ৪৫০ টাকা (লিংক: https://www.rokomari.com/book/105730/the-hobbit?ref=null ) এছাড়াও সব অনলাইন বুকস্টোর সহ দেশের সব বড় বড় বুকস্টোরগুলোতে পাবেন। ইবুক প্রকাশ করেছে বইটই দাম: ৩০ টাকা। https://link.boitoi.com.bd/qmo8 এই কিউআর কোডটিও স্ক্যান করতে পারেন ইবুক প্রকাশ করেছে: সেইবই। দাম: ৪০ টাকা (https://sheiboi.com/Book/BookDetails?bookId=3159 ) গুডরিডস: https://www.goodreads.com/book/show/47513226 দি হবিট বইটি নিয়ে আমার কিছু কথা পড়ার জন্য: দি হবিট-অনুবাদকের কথা বইটি নিয়ে রিভিউ দিয়েছেন পাঠক রেজাউল করিম: পাঠক প্রতিক্রিয়া: দি হবিট আরেকটি রিভিউ পেয়েছি আমরা রাফায়েত ইসলাম রিফাত-এর কাছ থেকে দি হবিট-পাঠ প্রতিক্রিয়া এছাড়া দি হবিট সংক্রান্ত অন্যান্য কিছু খবর: নতুন...

Read More
গিভএওয়ে ৩
Jul29

গিভএওয়ে ৩

মাঝে মাঝেই আমার পেজ থেকে প্রিয় পাঠকদের জন্য গিভ-এওয়ে প্রোগ্রাম রাখছি। আপাতত করোনার কারনে শুধু ই-বুক দেয়া হচ্ছে। ভাবিষ্যতে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেলে হার্ডবুকও দেয়ার প্ল্যান আছে। এর আগেও বেশ কিছু গিভএওয়ে করেছিলাম। সেগুলো নিয়ে কোনো পোস্ট করিনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সবগুলোর একটা ডকুমেন্ট অন্তত থাকা উচিত। এজন্যই এই পোস্ট। যাই হোক গত ২৫ জুলাই ২০২০ তারিখে যে গিভএওয়ের আয়োজন করা হয়েছিল তার বিজয়ীরা হলেন, নুসরাত জাহান শামামা এবি রায়হান স্বপ্নচূড়া রাফায়েত আলম রিফাত মোহাম্মদ আশিকুর রাহমান নুর জারসিস আযাদ সৈকত আহসান হাবিব আব্দুল ফাত্তাহ সাদিয়া আফরিন ধন্যবাদ সবাইকে যারা সবসময় আমার পাশে থাকে এবং ভালোবাসা...

Read More
দি হবিট-অনুবাদকের কথা
Jul28

দি হবিট-অনুবাদকের কথা

আজ জুন মাসের তৃতীয় রবিবার। ‘বাবা দিবস’। একজন বাবা তার বাচ্চাকে শোনানোর জন্য গল্প বানিয়েছেন, পরবর্তীতে সেই গল্প দুনিয়া জয় করেছে। এরকম ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। ‘দি হবিট’ এমনই একটা গল্প। প্রোফেসর টোলকিন লিখেছিলেন তাঁর বাচ্চাকে শোনানোর জন্য। লেখা শুরু হয় ১৯৩০ সালের প্রথমদিকে। পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন টোলকিন। একটা খাতায় খালি পৃষ্ঠা পেয়ে মনের অজান্তেই লিখে ফেললেন বইয়ের প্রথম লাইন। লেখা শেষ হল ১৯৩২ সালে। লেখার পর বেশ কয়েকজনকে পড়তে দিয়েছিলেন টোলকিন, এদের মধ্যে একজন ছিলেন আরেক বিখ্যাত লেখক সি এস লিউইস। The Hobbit (eBook & Hardcover) ‘দি হবিট’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৭ সালে। ১৯৫১ সালে বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণে(পঞ্চম ইম্প্রেশন) বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন লেখক। ঐসময় ‘দি লর্ড অব দা রিংস’ নিয়ে কাজ করছিলেন টোলকিন। ‘দি হবিট’ আর ‘দি লর্ড অব দা রিংস’-এর স্টোরি লাইনে মিল আনার জন্যই পরিবর্তনটুকু আনা হয়েছিল। ১৯৬৬ সালে বের হয় তৃতীয় সংস্করণ। এবারেও বেশ কিছু পরিমার্জন করা হয়। অনুবাদের ক্ষেত্রে আমরা এই তৃতীয় সংস্করণটিকে মূল বই হিসেবে ব্যবহার করেছি। লেখকরা মাঝেমাঝেই লেখার ক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করেন। ‘দি হবিট’-এর ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে। লেখক টোলকিনের এক আন্টির ফার্মের নাম ছিল ‘ব্যাগ এন্ড’। বিলবোর বাড়ি। আবার ১৯১১ সালে টোলকিনের বসন্তটা কেটেছিল সুইজারল্যান্ডের মিস্টি মাউন্টেন্সে বন্ধুদের সাথে হাইকিং করে। এই বইয়ের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে মিস্টি মাউন্টেন্স। বইয়ে দানব মাকড়শাদের দেখা পাবেন পাঠক। ছোটবেলায় নাকি মাকড়শা কামড়েছিল টোলকিনকে। আর ‘ব্যাটল অব ফাইভ আর্মিজ’ হয়তো লেখকের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হয়েছে। লেখকের কথা তো গেল। এবার অনুবাদকের কথায় আসি। ‘দি হবিট’ কালজয়ী বই। খুবই কাঁচা হাতে সেই কালজয়ী বইকে বাংলা ভাষায় আনার চেষ্টা করেছি। অবশ্য চেষ্টা করেছি না বলে, চেষ্টা করার দুঃসাহস দেখিয়েছি বললে বেশি সঠিক হয়। মূল বইয়ে লেখকের গল্প বলার স্টাইল অনুসরন করার চেষ্টা করেছি। এটা করতে গিয়ে নিশ্চিতভাবেই ভুল হয়েছে অনেক। এই সব ভুলের পুরো দায় আমার। জানি, পাঠকরা ক্ষমা করবেন আমাকে। প্রায় এক বছরের বেশি সময় কাজ করেছি এই বই নিয়ে। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। এরপরেও অনুবাদে যে কমতি রয়ে গেছে সেই কমতিটা বইয়ের কমতি নয়, আমারই কমতি। এক্ষেত্রেও পাঠকদের কাছ থেকে ছাড় পাব আশা করি। ‘দি হবিট’ একটি অসাধারণ বই। মূল বইয়ের পুরো মজা পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে পারব না, কিন্তু যদি কিছুটাও পৌঁছে দিতে পারি সেটাই যথেষ্ট। তাতেই আমার সব কষ্ট সার্থক। মহিউল ইসলাম মিঠু সাভার, ঢাকা। জুন ২১, ২০১৫ বইটির ব্যাপারে সব বিস্তারিত পাবেন এখানে: দি হবিট (বই...

Read More
দি হবিট-পাঠ প্রতিক্রিয়া
Jul28

দি হবিট-পাঠ প্রতিক্রিয়া

পাঠক প্রতিক্রিয়াটি লিখেছেন: রাফায়েত ইসলাম রিফাত কাহিনী সংক্ষেপঃ বিলবোকে নিজের অনিচ্ছায় বের হতে হয়েছিল যুদ্ধের জন্য। তা-ও যেমন তেমন যুদ্ধ নয়। যুদ্ধটা ড্রাগনের বিরুদ্ধে। বহুবছর অগে লোনলি মাউন্টেন শহরে বসবাস ছিল বামনদের। শহরটি সোনাদানা, হীরে-জহরতের কোনো অভাব ছিলনা । হঠাৎ লোনলি মাউন্টেন শহরে একদিন আক্রমণ করেন ড্রাগন। এই অপ্রত্যাশিত আক্রমণের জন্য সেই শহরে বসবাসরত কোনো বামন প্রস্তুত ছিলনা। সেইদিনের পড় থেকে শহরটি চলে যায় ড্রাগনের কব্জায়। দি হবিট ড্রাগন যখন অকল্পনীয় আক্রমণ চালাচ্ছিল বামনদের উপরে। তখন কিছু বামন লোনলি মাউন্টেন শহরের বাহিরে ছিল। তারা বাহিরে থাকার কারনে পালাতে সক্ষম হয়। যারা পালিয়েছেন তাদের মধ্যে পর্বতের রাজা, থ্ররের নাতি থরিন ও ছিল।থ্ররের নাতি থরিনএবং আরো এগারোজন বামন সাথে ছিল আর ছিলো জাদুকর গ্যান্ডালফ। তাদের উদ্দেশ্য আবার সেই লোনলি মাউন্টেন পুনরায় উদ্ধার করবেন। জাদুকর গ্যান্ডালফ এর কথার আর পরিস্থিতির প্যাঁচে পড়ে বিলবো মানে ছোটো হবিটকে নিজের অনিচ্ছায় বের হতে হয় লোনলি মাউন্টেন শহরের উদ্দেশ্যে। লোনলি মাউন্টেন পৌঁছানোটা সহজ কথানই তার জন্য পারি দিতে হবে বিশাল পথ। আর মুখোমুখি হতে হবে নানারকম ঝামেলার। এই ঝামেলা গুলো পাড়ি দিয়ে সেখানে পৌঁছালেই বিপদ শেষ না। সেখানে পৌঁছে লড়তে হবে ড্রাগনের সাথে। বিলবো তার জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলনা। তার পরেও পুরো যাত্রাপথে সব থেকে বেশি কাজে লেগেছে এই ছোটো হবিটটাকে। এই অল্প সাহসী হবিটাই যাত্রাপথের শেষের দিকে অন্যরকম এক সাহসী হয়ে উঠলো।মন্তব্যঃ এককথায় বলতে গেলে অসাধারণ। ৩৫২ পৃষ্ঠার বই পড়তে সাধারণত অনেক সময় বিরক্তি লাগে। কিন্তু এই বইটা পড়তে কোনোরকম বিরক্তি বা খারাপ লাগেনি। আমি শুধু প্রথম অধ্যায়টা পড়েছিলাম তারপরের অধ্যায় গুলো বই আমাকে পড়তে বাধ্য করেছে। মহিউল ইসলাম মিঠু ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা বই বাংলাভাষায় অনুবাদ করার জন্য। রেটিং মন্তব্যঃবইটা যে পড়বে তার 5star ★ রেটিং দিতে হবে। বইটার যোগ্যতা দেখে 5star দিতেই হবে। অসাধারণ একটা বই। উপসংহারঃ সবার ভালো কামনা করছি। ঘরে থাকুন,ভালো থাকুন। পরিবার, প্রিয়জনদের ভালো রাখুন।অবশ্যই একমাত্র আল্লাহ পারেন আমাদেরকে এ-ই সমস্য থেকে মুক্তি দিতে। আমরা সকলেই নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে এই মহামারী থেকে ক্ষমা চাবো। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আমাদের মহামারীর হাত থেকে মুক্তি দিবেন। বইঃ দি হবিট লেখকঃজে, আর, আর, টলকিন অনুবাদঃ মহিউল ইসলাম মিঠু পৃষ্ঠাঃ৩৫২ রেটিংঃ✪✪✪✪✪ বইটির ব্যাপারে সব বিস্তারিত পাওয়া যাবে এই...

Read More
চেতনা জাগাই- ফলো আপ
Apr24

চেতনা জাগাই- ফলো আপ

গত ১৫ এপ্রিল চেতনা জাগাই করোনা থামাই নামে একটা ক্যাম্পেইন শুরু করেছিলাম। যেহেতু পাঠকদের টাকা দিয়েই ফান্ড রেইজ করছি, তাই স্বচ্ছতা জরুরী মনে হচ্ছে। এইজন্য এই ফলো আপ পোস্ট। এপ্রিল মানে এপর্যন্ত বইটইতে আমার ইবুক বিক্রি হয়েছে ১৩ ‍টি। যেগুলোর জন্য পাওয়া গেছে ২৫৭ টাকা। যেহেতু বইটইও আমার ক্যাম্পেইনের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করে নিজেদের অংশটাও এই ফান্ডে দিচ্ছে, তাই যাচ্ছে। সেইবইতে বিক্রি হয়েছে ১৬টি। সেখান থেকে পাওয়া গেছে ২৬০টাকা। সেইবইয়ের ৩০% বাদ দিলে থাকবে ১৮২ টাকা। এই ১৮২ টাকা যাচ্ছে ফান্ডে। অর্থাৎ মোট যাচ্ছে (১৮২+২৫৭) ৪৩৯টাকা। ক্যাম্পেইন শেষ হলে পুরো টাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের প্রতিনিধির হাতে তুলে দেয়া হবে। যারা এই উদ্যোগে আমার পাশে ছিলেন তাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই। সবাই ভালো থাকবেন। দেয়া করবেন। ক্যাম্পেইনের ব্যাপারে সব বিস্তারিত পাবেন এই লিংকে:...

Read More