অনলাইনে বইয়ের-দোকানে
Nov09

অনলাইনে বইয়ের-দোকানে

১৯৯০’র দশকে জন্ম নেয়া বইপড়ুয়ারা জানে, বই না পাওয়ার কষ্ট কাকে বলে। বিশেষ করে আমরা যারা ছোট শহর আর প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে বেড়ে উঠেছি তাদের জন্য এলাকার বেইয়ের দোকানে পছন্দের বই পাওয়াটা এক কথায় ছিল অসম্ভব। বছরে ছয়মাসে একবার বড় বড় শহরগুলোতে আসতাম বই কিনে নিয়ে যেতাম। দেখা যেত, যেগুলো কিনতে চেয়েছিলাম সেগুলোর বেশিরভাগই কেনা যায়নি, কারন দোকানেই সেই বই থাকত না বেশিরভাগ সময়। আমাদের অবস্থা ছিল যাই পাই তাই খাই টাইপ। আমাদের কাজ ছিল, এলাকার পাবলিক লাইব্রেরি আর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ঘুরে পুরাতন বই পড়া আর পত্রিকায় নতুন প্রকাশিত বইয়ের বিজ্ঞাপন দেখা। নতুন বই দেখার জন্য মন আকুপাকু করত কিন্তু বই পেতাম না। বন্ধুদের একজন বই কিনলে, সেই বই নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যেত। কে আগে পড়বে। আর যে আগে পড়ে কাহিনি বলে দেবে, তার কপালে শনি। এখন অবস্থা আর তেমন নেই। দেশের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, পছন্দের বই অর্ডার করলে বই পৌছে যাবে দরজায়। বইয়ের জন্য সেই অদ্ভূত মধুর হাহাকার করার সুযোগটা বন্ধ হয়ে গেছে।পছন্দ বা আগ্রহের বইটা পড়ার ইচ্ছাটা মাটি হচ্ছে না ভুলেও। এই পোস্টে দেশের প্রথমসারির কিছু অনলাইন বুকস্টোরে আমার প্রোফাইল লিংকগুলো শেয়ার করতে চাচ্ছি। রকমারি অনলাইন বুকস্টোরের আলাপ আসলে সম্ভবত সবার আগে আসবে “রকমারি”র নাম। বিভিন্ন অফার, দ্রুত ডেলিভারি, আর বইয়ের বিরাট কালেকশন নিয়ে বাংলাদেশের পাঠকদের আস্থা অর্জন করে নিয়েছে। রকমারিতে আমার বইগুলো দেখতে ও অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন এখানে। রকমারি প্রোফাইল মাঝে মাঝেই আমি একটা সমস্যা ফেইস করছি। সেটা হল, অনলাইন ‍বুকস্টোরে আমার প্রোফাইলে এমন কিছু বই পাচ্ছি যেগুলোর সাথে আমার কোনে সম্পৃক্ততা নেই। এব্যাপারে রকমারি এবং সংশ্লিষ্ট প্রকাশকদের সাথে যোগাযোগ করেছি। প্রথমে একবার এধরনের বইগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে আবার কেন যোগ করা হয়েছে জানিনা। এব্যাপারে বারবার বলেও তাদের আটকানো যাচ্ছে না। তাই এজন্যই অনেকটা বাধ্য হয়েই এই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটা তৈরি করেছি। যাতে আমার পাঠকরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যে ঠিক কোনগুলো আমার বই আর কোনগুলো নয়। আজকে পর্যন্ত (১১ নভেম্বর ২০১৯) আমার রকমারির প্রোফাইলে দুটো বই দেখা যাচ্চে যেগুলো আমার নয়। বইগুলো হল: বারাক ওবামার লেখা ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার এবং এপিজে আবদুল কালাম লার্নিং হাউ টু ফ্লাই (হার্ডকভার)। বইবাজার আরেকটি অনলাইন বুকশপ যেটি বাংলাদেশের পাঠকদের আস্থা অর্জন করে নিয়েছে সেটা হল, বইবাজার ডট কম।ইউজার ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট, এবং ক্রেতাসেবার জন্য বইবাজার বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। আশা করছি ভবিষ্যতে তাদের সার্ভিস আরো ভালো হবে। বইবাজার প্রোফাইল বইবাজারে আমার বইগুলো দেখতে ও অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন এখানে। আমার বই নয় তবুও আমার প্রোফাইলে দেখানো হচ্ছে, বইবাজার প্রোফাইলেও এমন বই আছে। চারটা। ১. দ্য স্ট্রাগল ইজ মাই লাইফ – নেলসন ম্যান্ডেলা। ২. রহস্যময় ঘড়ি। ৩.লার্নিং হাউ টু ফ্লাই। ৪. দি স্কুল ফর রবিনসন। ইত্যাদি শপ অনলাইন বুকস্টোরগুলোর মধ্যে ইত্যাদি শপে ডেলিভারি চার্জ সবচেয়ে কম। মাত্র ৩০টাকা। আমি ব্যক্তিগতভাবে এদের সার্ভিস কখনও ব্যবহার করিনি। তাই কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। ইত্যাদি শপ প্রোফাইল ইত্যাদি শপে আমার বইগুলো...

Read More
শচীনের ছেলেবেলা
Oct28

শচীনের ছেলেবেলা

শচীন টেন্ডুলকারের অটোবায়োগ্রাফী “প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে” প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে। বাংলায় অনুবদের কাজটা করেছিলাম আমি। এই লেখাটি সেই বইয়ের প্রথম অধ্যায়। শচীনের শৈশব প্রচ্ছদ “বাবা, জীবনটা একটা বইয়ের মত। অনেকগুলো অধ্যায় আছে এতে। বইয়ের মতই শিক্ষাও আছে অনেক। অনেক ধরনের অভিজ্ঞতায় ভরা আমাদের জীবন। পেন্ডুলাম একবার সফলতার দিকে দুলবে, আরেকবার দুলবে ব্যর্থতার দিকে। সাফল্য, ব্যর্থতা, দু’টোরই আলাদা আলাদা শিক্ষা আছে। দু’টো থেকেই শিক্ষা নিতে হবে। তবে বেশীরভাগ সময়ই সফলতার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষার চেয়ে, ব্যর্থতার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষাই বেশি মূল্যবান। তুমি একজন ক্রিকেটার বা ক্রিড়াবিদ। তুমি তোমার দেশকে প্রতিনিয়ত বিশ্বের সামনে তুলে ধরছ। বলাবাহুল্য এ এক বিরাট সম্মান। কিন্তু কখনও ভুলে যেওনা এটাও জীবনের একটা অধ্যায় মাত্র। একটা মানুষ কতদিন বাঁচবে? বড় জোড় সত্তুর বা আশি বছর। এর মধ্যে তুমি খেলবে কত বছর? বিশ, খুব ভালো খেলতে পারলে হয়তো বা পঁচিশ, তার বেশি নয়। তারমানে কি? তোমার জীবনের বেশির ভাগটাই কাটবে ক্রিকেটের বাইরে। সোজা কথা হল, জীবনটা ক্রিকেটের চেয়েও অনেক বড়। শোন বাবা, আমি চাই তুমি ভারসাম্য রাখতে শেখো। তোমার সাফল্য যেন তোমাকে দাম্ভিক করে না তোলে। যদি বিনীত, নম্র থাকো তাহলে তোমার ক্রিকেটারের ছোট্ট জীবনটা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও মানুষ তোমাকে সম্মান করবে, ভালোবাসবে। একজন বাবা হিসেবে, “শচীন একজন ভালো খেলোয়াড়” এর চেয়ে “শচীন একজন ভালো মানুষ”Ñএটা শুনতেই বেশি ভালো লাগবে আমার।”কথাগুলো আমার বাবার। বেড়ে ওঠার সময় অগণিতবার এই কথাগুলো শুনেছি আমি। আমার জীবনদর্শন এই কথাগুলোকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে।আমার জন্ম মুম্বাইয়ের পূর্ব বান্দ্রায় এক রক্ষণশীল মহারাষ্ট্রীয় পরিবারে। থাকতাম সাহিত্যিরা সাহাওয়াস কলোনীতে। আমাদের কলোনীটা লেখকদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে জুৎসই একটা জায়গা কিন্তু আমি হয়ে গেলাম ক্রিকেটার। চার ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট আমি। আমার বড় দু’ভাই আর এক বোন। ভাইদের নাম অজিত আর নিতিন আর বোনের নাম সাবিতা। আমি যে শুধুমাত্র বাড়ির সবচেয়ে ছোট সদস্যই ছিলাম না, বাড়ির সবচেয়ে দুষ্টু সদস্য বলতেও আমাকেই বোঝানো হত।আমার বাবা রমেশ টেন্ডুলকার, সুপরিচিত মারাঠি কবি, সাহিত্য সমালোচক, অধ্যাপক। আর মা, রজনী টেন্ডুলকার। মা চাকরী করতেন ‘লাইফ ইনস্যুরেন্স কোর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া’তে। আজকের এই আমি হওয়ার জন্য এই দু’জন মানুষের কাছে ভীষণভাবে ঋণী আমি। আমার জন্য জীবনে অসংখ্যবার অনেক অনাকাক্সিক্ষত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছেন তারা। কিন্তু কোনবারই আমার উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যায়নি তাদের, বারবার সুযোগ করে দিয়েছেন আমাকে। সত্যি কথা বলতে, মাঝে মাঝে আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই এই ভেবে যে, আমার মত এতটা দুষ্টু ছেলের সাথে মা-বাবা পেড়ে উঠতেন কিভাবে। আমি জানি, অসংখ্যবার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছি আমি কিন্তু তারা আমার এসব দুষ্টুমী বা বেয়াদবীর সাথে ঠিকই মানিয়ে নিতেন। কিভাবে পারতেন জানি না, আমি তাদের জায়গায় থাকলে অবশ্যই পারতাম না। আমার বাবা কখনও রেগে কথা বলতেন না আমার সাথে। তিনি বোঝাতেন যে, কেন আমার ঐ কাজটা করা উচিত নয়। তার এই বোঝানোর ব্যাপারটা সবসময়ই অনেক বেশি কাজে লাগত। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সময় বাবাকে হারানো আমার জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনাগুলোর...

Read More
নিজেকে নিয়ে যা ভাবি
Oct28

নিজেকে নিয়ে যা ভাবি

দুনিয়ার প্রায় সবকিছুতেই আমার আগ্রহ আছে। মরে যাওয়ার সময় আমার বিরাট একটা আফসোস থেকেই যাবে যে দুনিয়ার সবকিছু জানা হল না। সত্যি কথা বলতে, আমার কখনও মরতেই ইচ্ছে করে না। হুমায়ুন আহমেদের মত করে বললে, বলতে হয়, “আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে মানুষ কোথায় গিয়ে থামে।” মরে গেলে তো আর জানা হবে না। হুমায়ুন আহমেদের কথা যখন উঠল তখন বলেই ফেলি। হুমায়ূন আহমেদ আমার প্রিয় লেখকদের একজন। তালিকায় আরো অনেকে আছেন, সত্যজিত রায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, আনোয়ার হোসেন, রকিব হাসান, জাফর ইকবাল, হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড, ড্যান ব্রাউন, অ্যাডগার রাইজ বারোজ, ইত্যাদি আরো আরো অনেকে। আসলে আমি যত লেখকদের বই পড়েছি, তাদের সবারই কিছু কিছু বই আমার অসাধারন লেগেছে (সম্ভবত)। এভাবে লেখকদের নিয়ে লিখতে থাকলে আমি সারাদিনই লিখতে পারব। তাই শুধু এটুকু বলেই শেষ করতে চাই যে, বই পড়া আমার অন্যতম প্রধান কাজ। বই ছাড়া আমি নিজেকে কল্পনাও করতে পারি না। তবে বইগুলো আশেপাশের লোকজনের ভাষায়, ‘আউটবই’। ক্লাসের পুস্তক আমার আজন্ম শত্রু।আমার দ্বিতীয় প্রধান কাজ আগে ছিল গান শোনা। ইদানীং আর খুব একটা সময় পাই না। ছোটবেলায় পড়তে পড়তে গান শুনতাম। আজকাল তো পড়াশুনাও করি না। এখানে আমার বিশেষ কোন পছন্দ নেই। সবরকম ভালো গানই আমার ভালো লাগে। রবীন্দ্র থেকে র‌্যাপ, সবরকমই শুনি। নির্ভর করে মুডের উপর।এরপরের পছন্দ সিনেমা। এইখানেও আমার পছন্দ খিচুরী টাইপ। নতুন-পুরান, রোমান্টিক- ননরোমান্টিক, সিরিয়াস- আনসিরিয়াস, সবরকমই ভালো লাগে।আরেকটা বড় আগ্রহের ব্যাপার হল ঘোরাঘুরি। বাবা সরকারী চাকুরী করতেন, সে সুবাদে বাংলাদেশের বেশ কিছু জায়গা আমি ঘুরেছি। ভ্রমন মানে আমার কাছে শুধু তিনদিনের জন্য কোথাও গিয়ে পিকনিক করা আর ছবি তোলা নয়। সেখানকার মানুষ, প্রকৃতি, জীবনযাত্রা, পার্থক্য-মিল খুঁজে বের করার চেষ্টা করা। এ অর্থে সত্যিকারের ভ্রমন খুব বেশি করতে পারিনি। তবে জীবনে সারা দুনিয়াটা একবার ভ্রমন [আমার অর্থে] করতে চাই।আরেকটা বিরাট রকম ইচ্ছা আছে। সেটা হল, বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী-সমৃদ্ধ দশটা দেশের তালিকায় দেখতে চাই। চাই, বাংলাদেশ সারা দুনিয়ার মানুষের জন্য স্বপ্নপুরী হয়ে উঠুক। আমি জানি একদিন বাংলাদেশ সেই জায়গায় যাবে। কিন্তু আমি মরে যাওয়ার আগে এই দিনটা দেখে যেতে চাই। মরার আগে পৃথিবীর সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত দেশের নাগরিক হওয়ার অনুভূতিটা বুকের ভেতর অনুভব করতে চাই।জীবনে অনেক কিছুই চেয়েছি। যা চাইছি তার প্রায় সবই পেয়েছি। তার মানে এই নয় যে আমার চাহিদা খুব কম, আবার খুব বেশি এমনও নয়। আবার তার মানে এটাও নয় যে, আমি নিজেকে সফল ভাবি। সফলতার সংজ্ঞাটাই আমার কাছে অস্পষ্ট। আমার মনে হয় একটা মানুষ সফল নাকি বিফল তা সে অনুভব করবে মৃত্যুশয্যায়, তার আগে না। তবে এটুকু বলতে পারি, সফল হতেই হবে, এরকম চিন্তা করে কখনও কোন কাজ করিনি। যা ভালো লেগেছে করছি, যা লাগেনি করিনি। সফলতা বা ব্যর্থতা নিয়ে আমি কখনই খুব বেশি চিন্তিত ছিলাম না। এখনও নই। গন্তব্যের চেয়ে পথ টাকেই সবসময় বেশি চমৎকার মনে হয়েছে আমার। যা করি ভালবেসে করি, ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রায় কিছুই করিনা। জোর করে ঢেকি গেলা অভ্যাসটা আমার নেই...

Read More