দি লর্ড অফ দ্য রিংস-প্রকাশকের কথা

দি লর্ড অফ দ্য রিংস

প্রকাশকের কথা

অনেকেই ‘দি লর্ড অফ দ্য রিংস’কে ট্রিলোজি বলেন। কিন্তু এটি মূলত ছয় খন্ডে বিভক্ত একটামাত্র উপন্যাস, যেটা সাধারণত তিনটি ভলিউম আকারে প্রকাশ করা হয়।
১৯৩৭ সালে লেখক তার ‘দি হবিট’ বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই আরও বড় কিছুর পরিকল্পনা করতে থাকেন এবং সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ‘দি লর্ড অফ দ্য রিংস’-এ রূপ নেয়। প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত এই বই সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বইগুলোর একটি হিসেবে নিজের আসন বজায় রেখেছে দশকের পর দশক।
লেখক জে. আর. আর. টোলকিন ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত পুরো উপন্যাসটি ধাপে ধাপে রচনা করেন। তিনি চেয়েছিলেন পুরো বইটি এক মোলাটে প্রকাশিত হোক। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কাগজের প্রাপ্যতা অনেকটা কমে গিয়েছিল। এবং পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়িক ব্যাপার চিন্তা করে প্রকাশক তখন আলাদা আলাদা খন্ডে বইটি প্রকাশ করার প্রস্তাব করেন।
তখন টোলকিন বইটিকে ছয় খন্ডে প্রকাশ করতে চাইলেন এবং প্রতিটা খন্ডের আলাদা আলাদা নামকরণ করলেন। কিন্তু প্রকাশক সেটাও করলেন না। শেষপর্যন্ত প্রতি দুইটি খন্ড একত্রিত করে একটি ভলিউম বানানো হয়। এবং পর্যায়ক্রমে তিনটি ভলিউম আকারে বইয়ের মোট ছয়টি খন্ড প্রকাশিত হয়। প্রথম ভলিউম ১৯৫৪ সালের জুলাই মাসে, দ্বিতীয় ভলিউম একই বছরের নভেম্বর মাসে, এবং শেষ ভলিউম ১৯৫৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয়।
অর্থাৎ নিজের মাস্টারপিস প্রকাশ করার ক্ষেত্রে মহান এই লেখক তার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন নি। (অনেক বছর পরে অবশ্য ছয়টা বইকে আলাদা করে একটা সংস্করণও প্রকাশিত হয়েছিল।) আমরা এই মাস্টারপিসের বাংলা সংস্করণের ক্ষেত্রে আমাদের প্রিয় লেখককে একটা ট্রিবিউট দিতে চাই। আর ‘দি লর্ড অফ দ্য রিংস’ উপন্যাসটা প্রকাশ করব মূল লেখকের ইচ্ছা অনুযায়ী ছয়টি খন্ডে।
এখানে মূল উদ্দেশ্যটা যদিও জে. আর. আর. টোলকিনকে ট্রিবিউট দেয়া এরসাথে আরেকটা ছোট্ট ইস্যুও আছে। সেটা হল বাংলা অনুবাদে এসে বইয়ের আকার খুব বেশি বড় হয়ে যাওয়া।
এই অনুবাদের ক্ষেত্রে আমরা লর্ড অফ দ্য রিংসের সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রকাশিত সংস্করণটি ব্যবহার করেছি। এই সংস্করণে প্রথম ভলিউম ‘দি ফেলোশিপ অফ দ্য রিং’-এ পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪০৭। অনুবাদ করার পর বইটা হয়ে গেছে ৬৫০ পৃষ্টারও বেশি। আমাদের অনুবাদক ‘মহিউল ইসলাম মিঠু’ কোনোরকম সংক্ষেপন করেননি।
প্রথম ভলিউমের অন্তর্গত দুটি খন্ডকে এইমূহুর্তে আমরা আলাদা দুটি বই আকারে প্রকাশ করছি। এভাবে পুরো সিরিজে বই হবে মোট ছয়টা। কিন্তু পরবর্তীতে পাঠকরা যদি চান তাহলে সাধারণত তিন ভলিউম আকারে যেভাবে প্রকাশিত হয় সেভাবে একটা সংস্করণ প্রকাশ করার ইচ্ছাও আমাদের রয়েছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে দামটা ক্রয়সীমার মধ্যে রাখা কতটা সম্ভব হবে সেটা একটা বড় চিন্তা। এমনকি সম্ভব হলে ছয়টি বইকে একত্রিত করে একটি বিশাল কলেবরের বই করারও একটা দুঃস্বপ্নও উঁকি দিচ্ছে মাঝেমাঝে। তবে এতদূর যদি নাও পারি, কিছু স্পেশাল লিমিটেড এডিশন অবশ্যই থাকবে।
শেষে আসল কথাটা হল, আমাদের এই আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যদি বিশ্বনন্দিত এই বইটি বাংলা ভাষাভাষি পাঠকদের মনে নিজের যোগ্যতার গুণে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারে তাহলেই আমাদের সব কষ্ট সার্থক হবে।

ঐশ্বর্য প্রকাশ
৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

দি লর্ড অফ দ্য রিংস বুক ১ নিয়ে বিস্তারিত সব জানতে ক্লিক করুন: দি লর্ড অফ দ্য রিংস বই পরিচিতি

Author: Moheul I Mithu

মহিউল ইসলাম মিঠু কৌতুহলী মানুষ। জানতে ভালোবাসেন। এজন্যই সম্ভবত খুব অল্প বয়সেই বইয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। পড়ার অভ্যাসটাই হয়তো ধীরে ধীরে লেখার দিকে ধাবিত করেছিল। তার পাঠকপ্রিয় অনুবাদ গুলোর মধ্যে রয়েছে: দি হবিট, দি লর্ড অফ দ্য রিংস, পার্সি জ্যাকসন, হার্ড চয়েসেজ, দি আইস ড্রাগন, লিজিয়ন, প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে, দি আইভরি চাইল্ড ইত্যাদি। বাংলাদেশে প্রথমসারির জাতীয় পত্রিকা, সংবাদপত্র ও ওয়েবসাইটের জন্য লিখেছেন বিভিন্ন সময়। তিনি বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন কিশোর-ম্যাগাজিন ‘আজবদেশ’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। বিশ্বখ্যাত ২০টির বেশি বই অনুবাদ করে বিভিন্ন স্তরের পাঠকের আস্থা অর্জন করেছেন, জিতে নিয়েছেন ভালোবাসা। তার অনুদিত কিছু বই বিভিন্ন সময় জাতীয় বেস্ট-সেলারের তালিকাগুলোতে ছিল। (লিখেছেন: লে: কর্নেল রাশেদুজ্জামান)

Share This Post On

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link